এদেশে গণতন্ত্র পূর্ন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছি : ডাঃ জাহিদ 

৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি, আপনাদের খেয়াল থাকার কথা

এদেশে গণতন্ত্র পূর্ন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছি : ডাঃ জাহিদ 

৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি, আপনাদের খেয়াল থাকার কথা, এখানে সকল পেশাজীবীরা প্রেসক্লাবে জমায়েত হতো এবং আমাদের আন্দোলন এক পর্যায়ে রাজনীতিবিদের হাত থেকে পেশাজীবীদের হাতে এসেছিলেন ,আমরা পেশাজীবীরা কর্ম বিরতি পালন করেছিলাম আপনাদের মনে আছে? এই দেশে গণতন্ত্র পূর্ন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছি। এই প্রেসক্লাবের সামনে হরতাল অবরোধ করেছি।

সোমবার(১৬ জুন )সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহবায়ক এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিক আতাউস সামাদ ও গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো কেউ কথা বলে না কেন ? কেন আমরা সত্য কথা বলতে পারবো না কেন আমরা ভয় পাবো কেন আমরা তোষামদি করবো সাংবাদিক আবার স্বৈরাচারের দোসর হবে কেন  কেন সাংবাদিক আবার কর্তৃত্ববাদী করবে সাংবাদিকদের কাজ হবে ইনফরমেশন সংগ্রহ করা সেগুলো প্রকাশ করা সাংবাদিকরা স্বৈরাচারের দোসর ও কর্তৃত্ববাদী এটি কি একদিনে হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে এগুলো চালু হয়ে আসছে। তাই আমি বলবো সাংবাদিকেরা দেশের স্বার্থে কাজ করবে এবং সত্য লেখনি দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ডা. জাহিদ আরো বলেন, তৎকালীন সরকার চারটি পত্রিকা রেখে সকল গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল। এজন্য ১৬ জুনকে সংবাদপত্রের জন্য কালো দিবস হিসেবে ১৯৭৮ সাল থেকে পালন করা হচ্ছে। দুঃখের বিষয় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ, পিআইবি পৃথক অনুষ্ঠান করতে পারতো, কিন্তু তারা তা করে নাই

তিনি  বলেন, আজকের দিনটির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আমার জানামতে আর কোন রাজনৈতিক দলের নেতা এ বিষয়ে কিছু লেখেননি। সুতরাং বিএনপি আপনাদের সঙ্গে ছিল এবং সবসময় পাশে থাকবে ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমের প্রতি যে নিপীড়ন চালিয়েছেন সেটা দুনিয়ার ইতিহাসে আর কোথাও হয়নি। আমরা চাই একটি মানবিক দেশ যেখানে কোনো গুম, খুন, হত্যা, মামলা নির্যাতন থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, ৫০ বছর পরও কেন আমরা সংবাদ পত্রের কালো দিবস নিয়ে আলোচনা করি? কারণ, সংবাদপত্রের ইতিহাসে এমন দিন আর কখনো আসেনি। সেদিন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে সংবাদপত্রের গলা চেপে ধরা হয়। সদ্য স্বাধীন হওয়া একটি দেশের সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে বেইমানি করা।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায়  বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন,  জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি ও ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী মহাসচিব বাসির জামাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খন্দকার হাসনাত করিম পিন্টু, আব্দুল আওয়াল ঠাকুর, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর হোসেন, নির্বাহী সদস্য শাহীন হাসনাত, তালুকদার রুমি প্রমুখ।